রাজস্থানের ভিলওয়াড়া জেলার থানা গ্রাম ভারতের অনেক গ্রামাঞ্চলের মতোই একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। কম বৃষ্টিপাত এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে তারা তাদের গবাদি পশুর জন্য পর্যাপ্ত খাবারের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছিল। তার ওপর গ্রামের চারণভূমি বা ‘চারাগাহ’ (সাধারণ জমি) ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া এবং অবৈধ দখলের ফলে সমস্যা আরও বেড়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তাদের সামনে কেবল দুটি কঠিন পথ খোলা ছিল— হয় অনেক টাকা খরচ করে দূর থেকে পশুখাদ্য কিনে আনা (যা সবার সামর্থ্যে ছিল না), অথবা তাদের পশুদের ছেড়ে দেওয়া। আগেকার দিনে যখন যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত ছিল, তখন গ্রামবাসীরা বাধ্য হয়ে তাদের পশুদের নিয়ে পায়ে হেঁটে প্রায় 400 কিমি দূরে মধ্যপ্রদেশের মালওয়াতে যেতেন এবং চরে খাওয়ার জন্য পশুদের সেখানে রেখে আসতেন। তবে 2006 সালে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। গ্রামের কিছু সচেতন মানুষ এই সমস্যাটি বুঝতে পারেন এবং বাকিদের সাথে আলোচনা করেন এবং সকলে মিলে একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এরপর সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের চারণভূমিকে দখলদারদের হাত থেকে বাঁচাতে এবং সেটিকে পশুখাদ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন।
এই ছবি-প্রবন্ধটি গ্রামবাসীদের সেই জমি রক্ষার লড়াই এবং এই মডেলটি তৈরি করার সময় সন্মূখীন হওয়া নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছে। এখানে তাদের দৃঢ় মনোভাবও তুলে ধরা হয়েছে—তারা যেমন তাদের পশুদের জন্য লড়ছে, তেমনি পরিবেশ রক্ষার জন্যও সমানভাবে কাজ করছে। তারা এখনো তাদের সাধারণ জমি বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

গবাদি পশু আর জমির টানে একজোট হওয়া
থানা গ্রামে গরু, ভেড়া এবং ছাগল মিলিয়ে প্রায় 1,200টি পশু রয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ মানুষের প্রধান জীবিকাই হলো পশুপালন। খরাপ্রবণ এলাকা হওয়ার কারণে শীতের শেষ থেকে শুরু করে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পশুখাদ্যের জোগান দেওয়া এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। এলাকার বাসিন্দা শ্যাম গুজ্জর জানান, “2022 সালের খরার সময় অনেক পশু না খেতে পেয়ে মারা গিয়েছিল। বিশেষ করে যেসব পশুদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তারা খিদের জ্বালায় প্লাস্টিক খেতে শুরু করেছিল।” শ্যামের বন্ধু কালু বলেন, “রাস্তার ওই অবলা পশুগুলোর কষ্ট আমরা বুঝি, কিন্তু আমাদের নিজেদের পশুদের খাওয়ানোই তখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”
এই কঠিন সময়ে একটি পশুকে শুধু বাঁচিয়ে রাখতেই খরচ পড়ে যেত প্রায় 10,000 টাকা আর তাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে এই খরচের অঙ্কটা বহুগুণ বেড়ে যায়। শ্যাম জানান, “এই মাসগুলোতে গমের খড়ের দাম বেড়ে প্রতি কেজি 20 টাকা বা প্রতি 40 কেজির দাম 600 টাকা পর্যন্ত হয়ে যায়। একটা পশুকে বাঁচিয়ে রাখতেই কমপক্ষে 600 থেকে 700 কেজি খাবার লাগে, আর ভালোভাবে পালন করতে গেলে প্রায় 4,000 কেজি পর্যন্ত খাবার দরকার হয়।”

সাধারণ জমি না থাকলে, সমাজে একসঙ্গে থাকার অনুভূতিটাও হারিয়ে যায়।
তা ছাড়া, সমাজের প্রভাবশালী এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা যখন সাধারণ জমি দখল করে নেন, তখন ক্ষুদ্র কৃষকদের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। তখন তাঁদের আয়ের একটা বড় অংশ পশুখাদ্য কিনতেই খরচ করতে হয়। অথচ যদি পর্যাপ্ত সাধারণ জমি থাকত, তাহলে তাঁরা সহজেই পশু চরিয়ে এই খরচ অনেকটাই কমাতে পারতেন।
সাধারণ জমি না থাকলে, সমাজে একসঙ্গে থাকার অনুভূতিটাও হারিয়ে যায়। শ্যাম বলেন “ব্যক্তিগত মালিকানা আর যৌথ মালিকানার মধ্যে তফাত অনেক। একজন ব্যক্তি তাঁর জমির চারপাশে 6 ফুটের দেয়াল তুলে দিতে পারেন এবং ঠিক করতে পারেন সেখানে কে ঢুকবে আর কে ঢুকবে না। কিন্তু সাধারণ জমির ওপর গ্রামের গরিব-বড়লোক নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার থাকে। তাঁরা সবাই মিলে ঠিক করতে পারেন জমিটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে। এখানে ধনী ব্যক্তিরা যেমন বিশ্রামের জন্য আসতে পারেন, তেমনি গরিব মানুষরা এখান থেকে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।”
2006 সালে, শ্যামের বাবা বালুলাল গুজ্জর গ্রামের মানুষদের একত্রিত করার উদ্যোগ নেন, যাতে তারা নিজেদের সাধারণ জমি দখলমুক্ত করতে পারে। গ্রামের মানুষ বুঝতে পারেন যে এই জমি রক্ষা করা তাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা সবাই মিলে এই উদ্যোগকে সমর্থন করেন। সেই বছরই একটি ঘরোয়া কমিটি গঠন করা হয়, যারা এই জমিগুলোর উন্নয়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে শুরু করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ হয়, তার জন্য থানা গ্রামের মানুষ একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। প্রতি মাসের 5 তারিখ এবং 20 তারিখ তাঁরা সভার আয়োজন করেন। সেই সভায় চারণভূমিতে কখন পশু চরানো যাবে, পশু চরানোর ফিস বা কর কত হবে তা ঠিক করা এবং কোথাও নতুন কোনো দখলের ঘটনা ঘটেছে কি না বা তা কীভাবে দূর করা যায় – এই সব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

শুরুতে এই কমিটি ঘরোয়াভাবে কাজ করলেও, 2021 সালের মার্চ মাসে রাজস্থান পঞ্চায়েতি রাজ আইন (1996)-এর অধীনে এটি ‘চারাগাহ বিকাশ সমিতি’ নামে সরকারিভাবে নথিবদ্ধ হয়। এর ফলে স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগানো, তহবিল গঠন এবং গ্রামের উন্নয়নের জন্য সরকারি সাহায্য পাওয়ার আইনি ক্ষমতা লাভ করে এই কমিটি। উক্ত আইনের আওতায়, এই জমিগুলোর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং পাশাপাশি জমির ব্যবহার এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়মও তারা কার্যকর করতে পারে।
সাধারণ জমি উদ্ধার
থানা গ্রামে প্রায় 2,000 বিঘা সাধারণ চারণভূমি রয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই কোনো না কোনো সময় বেদখল হয়ে গিয়েছিল। চারাগাহ বিকাশ সমিতির নিরলস প্রচেষ্টায় এই জমির 10 শতাংশ (200 বিঘা) ইতিমধ্যেই দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

কালু আরো জানান, “এই জমি উদ্ধার করা বেশ কঠিন, কারণ দখলদাররা প্রায়ই আমাদের নিজেদের বা পাশের গ্রামের লোক। আমরা প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় আমাদের নিজেদের টাকা খরচ করে 100 কিলোমিটার দূরে ভিলওয়ারাতে গিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হয়।”
দখল করার ধরনগুলোও একেক রকম। কেউ ধীরে ধীরে নিজের ব্যক্তিগত জমির সীমানা বাড়িয়ে সাধারণ জমির দিকে নিয়ে যায়। আবার কেউ পশুদের যাতায়াতের জন্য র্যাম্প বানিয়ে দেয়, যাতে তারা সহজে এই জমিতে ঢুকতে পারে। এমনকি কেউ কেউ জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে মন্দির বা মাজার তৈরির চেষ্টাও করেছেন। একবার তো একজন ‘বাবা’-কে (ধর্মীয় গুরু) সাধারণ জমিতে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দখলদাররা ভেবেছিল ধর্মের ভয়ে কেউ বাবাকে সরাতে সাহস পাবে না, আর সেই সুযোগে তারা জমিটি দখল করে নেবে।

এই দখল রুখতে কমিটি বিভিন্ন উপায় কাজে লাগায়। যেমন, দখলদাররা যদি সাধারণ জমিতে পাথরের দেওয়াল তোলে, তবে কমিটির সদস্যরা সেই দেওয়াল ভেঙে ফেলেন এবং সেই পাথর দিয়েই চারণভূমির সীমানা প্রাচীর তৈরি করেন। জবরদস্তি তৈরি করা র্যাম্প সরাতে অনেক সময় বুলডোজারও আনা হয়। একবার যখন পাশের গ্রামের এক ব্যক্তি সাধারণ জমিতে পাথরের একটা উপাসনালয় বানান, তখন কালু নিজেই এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। তিনি পাথরগুলো নিজে হাতে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে সেই ব্যক্তিদের বাড়ির কাছেই রেখে আসেন, যারা এটা বানানোর চেষ্টা করেছিল।
কালু জানান, দখলদাররা এই কৌশলগুলো ব্যবহার করে কারণ মানুষের মনে মন্দির-মসজিদের ধর্মীয় গুরুত্ব আছে। তারা ভাবে অমঙ্গলের ভয়ে কেউ এসব সরাবে না। শ্যাম যোগ করেন, “সেই ‘বাবা’ যখন চারণভূমিতে আস্তানা গেড়েছিলেন, তখন আমরা মাইক বাজিয়ে এবং ঢোল পিটিয়ে পুরো গ্রামের মানুষকে জড়ো করেছিলাম। আমাদের সবাইকে একজোট হয়ে আসতে দেখেই সেই বাবা নিজেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।”
উদ্ধার করা জমির উন্নয়নের জন্য সম্পদ জোগাড় করা
দখলমুক্ত করা যেমন এক বিরাট সাফল্য, সেই উদ্ধার করা জমিকে পশুখাদ্য উৎপাদনের উপযোগী করে তোলাও ঠিক ততটাই জরুরি, যাতে তা গবাদি পশুর খাবারের নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে ‘উন্নয়ন’ বলতে শুধু টাকার জোগানকেই বোঝায় না। শ্যাম জোর দিয়ে বলেন, “টাকা ছাড়াও গ্রামের মানুষ এই জমির উন্নয়নের জন্য নিজেদের শ্রম দিয়েছেন। একেকটি পরিবার আলাদা আলাদা দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিল—যেমন কেউ সীমানা প্রাচীরের একটা অংশ তৈরি করেছে।”

আর্থিক সাহায্য এবং শ্রমের পাশাপাশি সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাও এখানে বড় ভূমিকা পালন করে আর ‘চারাগাহ বিকাশ সমিতি’ এই কাজগুলোতে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে। কমিটিটি গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক এবং জেলা উন্নয়ন স্তরের আধিকারিকদের সাথে মিলে কাজ করে যাতে MGNREGA এবং মুখ্যমন্ত্রী জল স্বাবলম্বন যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পগুলো ঠিকভাবে ব্যবহার করে পরিকল্পনা অনুযায়ী জমির উন্নয়ন করা যায়। এই প্রকল্পগুলোর সাহায্যে জমির বেশিরভাগ উন্নয়ন—যেমন শক্ত সীমানা প্রাচীর তৈরি, পুকুর খনন, ছোট বাঁধ এবং নালা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

শ্যাম জানান, “এই জমির উন্নয়নে অগণিত মানুষের হাত রয়েছে। থানা গ্রাম তো বটেই, এমনকি 8 কিলোমিটার দূরের গ্রাম থেকেও মানুষ এখানে কাজ করতে এসেছেন। আমাদের অনুমান অনুযায়ী, এখানে প্রায় 1 কোটি টাকারও বেশি মূল্যের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার সুফল সরাসরি স্থানীয় মানুষ পাচ্ছেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে এই আর্থিক সুবিধা খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, কিন্তু কোনো একজন ঠিকাদারের পকেটে টাকা যাওয়ার চেয়ে এইভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে টাকা বণ্টন হওয়া অনেক বেশি ন্যায়সঙ্গত।”
চারণভূমির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে আনুমানিক 2.5–3 লক্ষ টাকার বাজেট প্রয়োজন।
তহবিল জোগাড় করতে কমিটিটি বর্ষাকালের পর ঘাস এবং ফল নিলাম করে, যেখান থেকে তাদের প্রায় 50,000 টাকা আয় হয়। এই টাকা দিয়ে বছরের পরবর্তী কয়েক মাসের জন্য একজন নিরাপত্তা রক্ষীকে নিয়োগ করা হয়, যাতে বাইরের কোনো পশু চারণভূমিতে ঢুকতে না পারে এবং অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ যেন সেখানে পশু চরাতে না পারে। ওই নিরাপত্তা রক্ষীকে মাসে 6,000 টাকা বেতন দেওয়া হয়।
নিলাম ছাড়া কমিটির নিয়মিত আয়ের আর কোনো উৎস নেই। শ্যাম হিসাব করে জানান যে, চারণভূমির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে অন্তত 2.5 থেকে 3 লক্ষ টাকা প্রয়োজন। এই অর্থ সীমানা প্রাচীর মেরামত করা, গাছ লাগানো এবং দিন-রাত পাহারা দেওয়ার জন্য নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগের কাজে ব্যয় করতে প্রয়োজন হবে। কালু মনে করেন যে সরকার বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যদি এই কাজে এগিয়ে আসে, তবে তাদের এই প্রচেষ্টা আরও সফল হবে।

সংরক্ষণের সুফল ভোগ করা
চারণভূমির এই উন্নয়নের ফলে দুটি বড় ধরনের উপকার পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমত, সরাসরি উপকার—বিশেষ করে কঠিন সময়ে পশুখাদ্যের জোগান বাড়ে। এর ফলে পশু পিছু বছরে অন্তত 6,000 টাকা বা তারও বেশি খরচ বেঁচে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, MGNREGA-র মাধ্যমে কাজের সুযোগ বাড়ছে, যা মানুষের সরাসরি আয় বাড়াচ্ছে এবং পশুদের পুষ্টিকর খাবারের জোগান নিশ্চিত করে তাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখছে।
গ্রামের এবং আশপাশের মানুষের কাছে এই উদ্ধার করা জমি এখন এক শান্তির জায়গা। শ্যাম বলেন, “আমি আর কালু প্রায়ই এখানে এসে চুপচাপ বসে থাকি আর পাখিদের ডাক শুনি।” কালু তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, “এখানকার পরিবেশ এতটাই শান্ত যে আপনি যদি ক্ষিদের পেটে এখানে আসেন, তবে নিজের ক্ষিদের কথাও ভুলে যাবেন।”

জমির প্রতি গ্রামবাসীদের এই গভীর ভালোবাসা আর টান তৈরি হয়েছে কারণ তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পরিশ্রমের সুফল আজ ভোগ করছেন। আর এর সুফল শুধু মানুষই নয়, গ্রামের গৃহপালিত পশুরাও পাচ্ছে। এমনকি নীলগাইয়ের মতো বন্যপ্রাণী আর কয়েকশো জাতের পাখিও এই জমির ঘাস, জল আর ফল খেয়ে উপকৃত হচ্ছে।

শ্যাম এবং কালু বলেন, “আমরা এই জমিতে বিভিন্ন ধরণের ফল ও গাছ লাগিয়েছি। এর ফলে অসংখ্য বন্যপ্রাণী ও পাখি উপকৃত হচ্ছে, তারা পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে এবং এর ফলে প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাচ্ছে।”

এই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ‘চারাগাহ বিকাশ সমিতি’-কে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কালু ও শ্যামের মতে, “একটি নিয়মিত আয়ের উৎস থাকলে আমাদের এই ব্যবস্থা আরও মজবুত হতো। সরকার যদি এই চারণভূমিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ করে, তবে অন্যান্য পঞ্চায়েতও আমাদের মতো সমিতি গড়তে উৎসাহিত হবে। এতে মানুষ, পশু এবং পরিবেশ—সবারই মঙ্গল হবে। এমনকি বেসরকারি সংস্থা বা অলয়াভজনক সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট কাজের জন্য তহবিল দিয়ে অথবা আমাদের দক্ষতা বাড়িয়ে সহযোগিতা করতে পারে।”
—





