কর্ণাটকের রায়চুরের একজন তরুণী ফিল্ড কোঅর্ডিনেটরের জীবনের একটি দিন। যেখানে ফুটে উঠেছে তার একসময়ের স্কুলছুট হতে বসা অবস্থা থেকে নিজের পায়ে দাঁড়ানো, পরিবারকে সামলানো এবং নিজ সম্প্রদায়ের পাশে এসে দাঁড়ানোর এক অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প।

READ THIS ARTICLE IN

Read article in Hindi
7 min read

আমি 14 বছর বয়সে সামাজিক ক্ষেত্রে কাজ সম্পর্কে জানতে পারি। প্রথমে, কর্ণাটক হেলথ প্রমোশন ট্রাস্ট (KHPT)-এর পরিচালিত একটি মেয়েদের ক্ষমতায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে আমি এর সাথে পরিচিত হই, এটি একটি অলাভজনক সংস্থা যা স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে কাজ করে। তাদের একজন কমিউনিটি অর্গানাইজার কর্ণাটকের কোপ্পাল জেলার হনুমাসাগর গ্রামে আমাদের স্কুলে জীবন দক্ষতা শিক্ষার সেশন পরিচালনা করতে এসেছিলেন। আমি তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়তাম এবং দুই বছর ধরে সেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলাম। দশম শ্রেণি শেষ করার পর, আমার পরিবার—আমার বাবা-মা এবং দুই ছোট ভাই—শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমাকে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বলে। কিন্তু মেয়েদের ক্ষমতায়ন কর্মসূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা আমার উচ্চশিক্ষার সংকল্পকে এতটাই দৃঢ় করেছিল যে, আমি তাদের সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করি।

সেই সময়ে, আমার মা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি যদি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই, তবে আমাকেও উপার্জন করতে হবে। 2018 সালে, KHPT আমাকে তাদের একটি প্রকল্পে পুষ্টি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেয়। এখানে আমার মূল কাজ ছিল তৃণমূল পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা, পুষ্টির প্যাকেট বিতরণ করা এবং কিছু সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করা। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রতিটি দিনের জন্য আমি INR 100 উপার্জন করতাম, যা আমার পড়াশোনায় সাহায্য করত। পরে, 2021 সালে আমার বিএ (BA) সম্পন্ন করার পর, আমি KHPT-তে কমিউনিটি অর্গানাইজার হিসেবে যোগ দিই, যেখানে আমি কিশোরীদের জন্য জীবন দক্ষতা শিক্ষা বিষয়ক সেশন নেওয়া শুরু করি। আমি একটি পঞ্চায়েতের অধীনে চার থেকে পাঁচটি গ্রাম সামলাতাম। 2023 সাল থেকে আমি ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর হিসেবে রায়চুরে কাজ শুরু করি, যেখানে বর্তমানে আমাকে তিন থেকে চারটি পঞ্চায়েতের কাজ তদারকি করতে হয়।

এই প্রতিটি পদে আমার কাজের ধরণ যেমন ভিন্ন ছিল, তেমনি পরিবর্তন এসেছিল দৈনন্দিন সময়সূচিতেও। তবে আমার জীবনের দৈনিক নিয়মে আরও একটি বড় পরিবর্তন আসে বিয়ের পর।

What is IDR Answers Page Banner

দিনের সূচনা: বিয়ের আগের ও পরের জীবন

2023 সাল পর্যন্ত, আমি কোপ্পালে আমার বাবা-মায়ের সাথে থাকতাম এবং আমার দিন শুরু হতো ভোর চারটায়। আমি ঘরের কাজ শেষ করে এবং পরিবারের জন্য রান্না করে দিন শুরু করতাম। একই সাথে আমাকে তিনটি দায়িত্ব সামলাতে হতো: আমার কলেজ, KHPT-এর সাথে কাজ এবং বাড়তি উপার্জনের জন্য নিজের দেওয়া একটি সবজির দোকান। চাকরি থেকে মাসে কেবল দ্বিতীয় শনিবার আর সপ্তাহে একদিন নির্ধারিত ছুটি পেতাম, তাই সেই ছুটির দিনগুলোতেই শুধু কলেজে ক্লাস করতে যেতাম। বাকি দিন আমি KHPT-এর সাথে ফিল্ডওয়ার্ক করতাম। সকালে বা সন্ধ্যায় যখনই সময় পেতাম, আমি সবজি বিক্রি করতাম।

আমার একটি ছোট দোকান ছিল যেখানে বসে আমি সকাল 10টা পর্যন্ত সবজি বিক্রি করতাম। ততক্ষণে আমাকে কাজে রিপোর্ট করতে হতো। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত, আমি আবার সবজি বিক্রি করতাম। আমি রাত 9টার দিকে বাড়ি ফিরতাম, মাকে রাতের খাবার তৈরিতে সাহায্য করতাম এবং তারপর সবাই একসাথে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমোতে যেতাম। সেই সময়ে আমার একটি সাধারণ দিন এমনই ছিল।

ধীরে ধীরে, আমার পরিবার বুঝতে শুরু করে যে আমার কাজ এবং শিক্ষা পরিবারের উপকারে আসছে।

18 বছর বয়স পর্যন্ত পর্যন্ত আমি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আমাদের সম্প্রদায়ের কিশোরী-মেয়েদের সংগঠিত করার কাজ চালিয়ে যাই, কারণ আমার বিশ্বাস ছিল যে অন্য মেয়েরা যখন আমাকে বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে দেখবে, তখন তারাও নিজেদের অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবে। সেই সময়ে, KHPT-তে কমিউনিটি অর্গানাইজারের একটি স্থায়ী পদের সুযোগ তৈরি হয় এবং আমি তার জন্য আবেদন করি। আমি সেই পদে দুই বছর কাজ করেছি।

ধীরে ধীরে, আমার পরিবার বুঝতে শুরু করে যে আমার কাজ এবং শিক্ষা পরিবারের উপকারে আসছে। এরপর থেকে তারা আমার পড়াশোনা ও চাকরি দুটিই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে শুরু করে। নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে আমি দুই ভাইয়ের দায়িত্বও নিই। আমার এক ভাই যেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ITI) থেকে ভোকেশনাল ট্রেনিং শেষ করতে পারে, তা আমি নিশ্চিত করি। অন্য ভাই পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল না, তাই আমি তাকে একটি ছোট সবজির ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করি যাতে সে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

অবশেষে, আমার বিয়ের প্রশ্ন ওঠে। আমি জানতাম যে বিয়ের পর, মেয়েরা তাদের শ্বশুরবাড়িতে চলে যায় এবং ঘরোয়া ও পরিচর্যার কাজ করে, এবং আমি তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আমি স্পষ্ট ছিলাম যে আমি কাজ চালিয়ে যেতে চাই, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই এবং শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যবসা শুরু করতে চাই। আমি জানতাম যে আমি এমন কোনো সঙ্গীর সাথে থাকতে পারব না যে এই স্বপ্নগুলোকে সমর্থন করে না।

donate banner

পাঁচ বছর ধরে, আমি বিয়ে এবং আমি কেমন জীবন চাই তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি। আমার মা চাইতেন আমি তাড়াতাড়ি বিয়ে করি, কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে যে পাত্রের কথা বলা হয়েছিল, তার জীবনভাবনা আমার সাথে একেবারেই মিলছিল না। পরবর্তীতে আমি যখন নিজের পছন্দমতো জীবনসঙ্গী বেছে নিই, তখন নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। কারণ আমাদের বিয়েটা ছিল ভিন্ন জাতের মধ্যে বিয়ে (আন্তঃবর্ণ বিবাহ), এবং আমার বাবা-মা এর সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে ছিলেন। |

বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়। আমার স্বামী এবং আমাকে সেখানে ডাকা হয়েছিল, এবং আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই কঠিন মুহূর্তেও আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়িনি; KHPT-র ‘স্ফূর্তি’ (Sphoorthi) বালিকা ক্ষমতায়ন কর্মসূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাই আমার মূল শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। কর্মসূচির মাধ্যমে, আমরা এক্সপোজার ভিজিট বা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, যার মধ্যে একটি ছিল থানায়। আমাদের আইন, আমাদের অধিকার এবং কীভাবে নিজেদের উপস্থাপন করতে হয় সে সম্পর্কে শেখানো হয়েছিল। সেই প্রশিক্ষণের কারণে, আমি জানতাম কীভাবে পুলিশের সাথে কথা বলতে হয়, কী বলতে হয় এবং কীভাবে নিজের অবস্থানে অটল থাকতে হয়।

আমার বিয়ের সময় পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুক আর সোনাদানা দেওয়ার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু আমি শুরুতেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলাম যে শ্বশুরবাড়িতে আমি একটা পয়সাও নিয়ে যাব না। আজ, আমার সঙ্গী এবং আমি একটি ভাড়া বাড়িতে শূন্য থেকে আমাদের জীবন গড়ে তুলছি, ধাপে ধাপে আমাদের নিজেদের টাকায় সবকিছু কিনছি।

এখন আমি সকাল 7টায় ঘুম থেকে উঠি। আমার স্বামী এবং আমি ঘরের কাজ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে একসাথে আমাদের সকাল শুরু করি।

two women sitting on the floor in a classroom, with numbers and the kannada alphabet painted on the walls behind them--community organiser
আমি বিশ্বাস করতাম যে অন্য মেয়েরা যদি আমাকে বাইরে বের হতে এবং কাজ করতে দেখে, তবে তারাও হয়ত কাজ করতে উৎসাহিত হতে পারে। | ছবি সৌজন্যে: রুবিয়া বেগম

মেয়েদের সাথে বিকেলগুলো কাটানো: তারা যেন আমার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিত করতে

কমিউনিটি অর্গানাইজার হিসেবে, আমার ভূমিকা ছিল স্থানীয় মেয়েদের পাশে থাকা। যখন আমার বাবা-মা আমাকে স্কুল ছাড়তে বলেছিলেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি কেবল আমার সমস্যা নয়—আমার বয়সী অনেক মেয়েকে স্কুল ছাড়তে বলা হয়েছিল, এমনকি আমার চেয়েও ছোট অনেক মেয়েকেই জোর করে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। আমি নিশ্চিত ছিলাম, ওদের এই লড়াইয়ে আমি ওদের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে চাই।

এটি প্রথমে সহজ ছিল না। আমি নিজেও দেখতে কিশোরী ছিলাম এবং আমার প্রায় সমবয়সী মেয়েদের সাথে কাজ করছিলাম। পাড়ার অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিল যে আমি কী অবদান রাখতে পারি। আমি বারবার গ্রামের প্রধান কর্মীদের সাথে দেখা করেছি, যেমন পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার (PDOs) এবং শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে, এবং ধৈর্য ধরে তাদের সাথে আলোচনা করেছি। আমি আমার পরিচালিত কার্যকলাপে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছি, এবং ধীরে ধীরে তারা আমার কাজের মূল্য বুঝতে শুরু করে।

আমার কাজের মধ্যে ছিল বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোর সাথে কথা বলা এবং মেয়েদের স্কুলে ফেরাতে, তাদের পুষ্টির উন্নতি করতে ও বাল্যবিয়ে রোধে কাউন্সেলিং করা। বিকেল 4 টায় মেয়েরা স্কুল থেকে ফিরলে আমি দুই ঘণ্টার জন্য তাদের জীবনদক্ষতা বিষয়ক সেশন পরিচালনা করতাম।

আমার ফিল্ড সুপারভাইজার এই পুরো সময়ে আমাকে সবরকম সমর্থন দিয়েছেন, নতুন নতুন বুদ্ধি শেয়ার করেছেন এবং প্রোগ্রামের নির্ধারিত কাজের বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করেছেন। এমনই একটি ধারনা থেকে আমার মনে প্রশ্ন জাগে যে কেন গণেশ হাব্বা থেকে মেয়েদের বাদ দেওয়া হয়, যা একটি বড় গ্রাম্য উৎসব এবং ঐতিহ্যগতভাবে কেবল ছেলেদের দ্বারা আয়োজিত হয়।

আমার কাজের মাধ্যমে, আমি তফসিলি জাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর মেয়েদের একত্রিত করেছিলাম যাদের একে অপরের পাড়ায় যাওয়ার কথা কখনো ভাবাই যেত না।

রাতে যখন গণেশ মূর্তি বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হতো, তখন মিছিলে শুধু ছেলেরাই অংশ নিত—তারাই নাচত, গান বাজাত এবং পুরো উৎসবের নেতৃত্ব দিত। মেয়েরা তখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করল, তারা কেন এটা করতে পারবে না? তারা কেন নাচতে পারবে না? তাদের জন্য কেন গান-বাজনা থাকবে না? আমরা আবার পঞ্চায়েতের কাছে গেলাম। প্রথমে বেশ আপত্তি এসেছিল—মেয়েদের নাকি রাতে বাইরে থাকা ঠিক নয়! কিন্তু বারবার আলোচনার পর, আমরা শেষ পর্যন্ত তাদের রাজি করাতে পেরেছিলাম।

সেই বছর, মেয়েরা ভাসানে যোগ দেয়। ডিজে মিউজিক ছিল, তারা রাস্তায় নেচেছিল, গণেশ বিসর্জন দিয়েছিল এবং নিরাপদে ফিরে এসেছিল।

একজন মুসলিম মেয়ে হিসেবে এই অংশগ্রহণের পথ তৈরি করে দেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। এমনকি আমার নিজের পরিবারও স্কুটি চালিয়ে কাজে যাওয়া নিয়ে কথা শোনাত। বলত, মেয়েদের এভাবে চলাফেরা করা ঠিক নয়। আবার কিছু এলাকায়, যেমন তফসিলি জাতিভুক্ত পাড়াগুলোতে, শুরুতে আমাকে পাত্তাই দেওয়া হতো না। আমার কাজের মাধ্যমে আমি তফসিলি জাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মেয়েদের একত্র করতে পেরেছিলাম, যাদের একে অপরের পাড়ায় যাওয়ার কথা কখনো ভাবাই যেত না। আমি তাদের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলি এবং খোলামেলা কথা বলি। তাদের বুঝিয়েছিলাম, আমরা যদি সত্যি পরিবর্তন চাই, তবে আমাদের এক হয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে। ধীরে ধীরে সেই কথাগুলোই ওদের মনের ভাবনায় পরিবর্তন আনতে শুরু করে।

এই মেয়েগুলোর মাধ্যমেই ধীরে ধীরে আমি আবার লোকজনের মাঝে মিশতে শুরু করি। সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনের বাধাগুলোও কেটে যেতে থাকে। মেয়েদের সাথে ভরসার সম্পর্ক তৈরি হওয়ায়, তাদের এলাকায় একজন মুসলিম নারী হিসেবে কাজ করার বিষয়টি তারা মেনে নেয়। অবশেষে আমি পুরো দমে আবার আমার কাজ শুরু করতে পারি।

আমরা আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস এবং নারী দিবসের মতো দিনগুলোও পালন করতে শুরু করি, যা আমাদের এলাকায় আগে কখনো উদযাপিত হয়নি। শুধু বাইরের সাহায্যের ওপর ভরসা না করে, আমি স্থানীয় মানুষ ও আশপাশের কারখানাগুলো থেকে মোট 80,000 টাকা চাঁদা সংগ্রহ করি, যাতে মেয়েদের টি-শার্ট দেওয়া যায়। পঞ্চায়েত যেখানে ছেলেদের যেকোনো উদ্যোগে বা খেলাধুলার টুর্নামেন্টে ইউনিফর্ম থেকে শুরু করে সবধরনের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে, সেখানে মেয়েদের চাহিদাকে সবসময়ই এড়িয়ে যাওয়া হতো। তাই আমরা শেষ পর্যন্ত মেয়েদের জন্যও খেলাধুলার টুর্নামেন্টের আয়োজন করি।

আমি গ্রামের প্রতিটি স্কুলে মেন্সট্রুয়াল ডিস্পোজেও সিস্টেম স্থাপনের জন্যও চাপ দিয়েছিলাম। আমি চিঠি লিখেছিলাম, আবেদন জমা দিয়েছিলাম এবং পঞ্চায়েতের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখেছিলাম। ফলস্বরূপ, আমি আমাদের এলাকার মেয়েদের অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা পরীক্ষা করার জন্য INR 10,000 সংগ্রহ করতে সক্ষম হই।

কোপ্পালে কাজ করার দুই বছরে, মেয়েদের এবং আমার উভয়েরই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছিল। স্কুলছুট হয়ে যাওয়া প্রায় 16 জন মেয়েকে আবার স্কুলে ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে আমি তাদের পরিবারের সাথে প্রতিনিয়ত কাজ করেছি।

young girls in school uniforms sitting on the classroom floor in a circle and being addressed to by two women--community organiser
কোপ্পালে কাজ করার দুই বছরে, মেয়েদের এবং আমার উভয়েরই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছিল। | ছবি সৌজন্যে: রুবিয়া বেগম

ব্যবস্থা বদলের সন্ধে: দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের জন্য

অবশেষে, নিজের শেখার আর এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ থেকেই আমি রায়চুরে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিই। তবে এই নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়াটা মোটেই সহজ ছিল না। এখানকার মানুষজনকে আমি চিনতাম না, শুরুতেই তারা আমাকে খুব একটা আপন করে নেয়নি; তার ওপর স্কুটি ছেড়ে দিয়েছিলাম বলে বাসের রুটগুলোও জানা ছিল না। তবে আস্তে আস্তে মানুষজন সাড়া দিতে শুরু করল, আর সময়ের সাথে সাথে রায়চুর শহরটাকেও নিজের ঘরের মতো মনে হতে লাগল। এই সময়েই আমার বিয়েও হয়।

ততদিনে আমি একটি প্রকল্পের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ শুরু করেছি। প্রজেক্টটির মূল লক্ষ্য ছিল পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মধ্যে এমন কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা, যাতে কিশোরীদের চাহিদাগুলোর প্রতি তারা আরও সংবেদনশীল হয়। আমি এই ব্যবস্থার ভেতর থেকেই দিকনির্দেশক হিসেবে আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, শিক্ষক ও গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের চিহ্নিত করি এবং মেয়েদের জীবনদক্ষতা বিষয়ক শিক্ষা চালু রাখার জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দিই। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, এই পরিবর্তনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে আমাদের অনুপস্থিতিতেও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ও স্থানীয় মানুষকেই এই উদ্যোগের দায়িত্ব ও দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, আমি নিয়মিত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সাথে কাজ করি। আমি তাদের সাথে বসে তাদের যে জীবনদক্ষতার বিষয়গুলো শেখানোর কথা রয়েছে, তা পর্যালোচনা করি। তারা কয়টি সেশন শেষ করেছে এবং কোন পাঠগুলো এখনও বাকি আছে, তা দেখে নিই। কোনো সেশন নেওয়া যদি তাদের কাছে কঠিন মনে হয়, তবে আমি তাদের ট্রেইনিং দিই এবং মেয়েদের সাথে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে যুক্ত হওয়া যায়, তা বুঝতে সাহায্য করি।

এর পাশাপাশি, স্থানীয় কমিটিগুলো, যেমন নারী ও শিশু সুরক্ষা কমিটি (WCPC) এবং মাক্কলা গ্রাম সভা, বা শিশুদের সংসদ সক্রিয় ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও আমি ভূমিকা রাখি। এর জন্য, আমি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের সাথে আলোচনা করি, নিয়মিত তাদের সাথে দেখা করি, মিটিং করার কথা মনে করিয়ে দিই এবং এই প্ল্যাটফর্মগুলো যাতে কার্যকরভাবে কাজ করে তা নিশ্চিত করতে ফলো-আপ করি। ধীরে ধীরে স্থানীয় অংশগ্রহণকারীদের সাথে আমার খুব ভালো একটা বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে এবং তারা এখন আমার মতামত সহজভাবে গ্রহণ করে। আমি যে মডিউল ও ধারণাগুলো তাদের দিই, তা তাদের দায়িত্ব আরও কার্যকরভাবে পালন করতে সাহায্য করে।

এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে এবং আমার চিন্তাভাবনাগুলোকে আরও স্পষ্টতা এবং দৃঢ়তার সাথে প্রকাশ করতে সাহায্য করেছে।

দিন শেষ: যেমনটা আমি সবসময় কল্পনা করতাম

সন্ধ্যায় যখন আমি বাড়ি ফিরি, আমি রাতের খাবার তৈরি করা শুরু করি। একই সময়ে, আমি আমার স্বামীকে তার পড়াশোনায় সাহায্য করি। সে তার দশম শ্রেণির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং আমি তাকে ভর্তি করার জন্য তার ফি দিয়েছি। যেহেতু সে একটি হোটেলে কাজ করে এবং সাধারণত দেরি করে ফেরে, আমি তার হয়ে তার অনলাইন ক্লাস করি এবং তারপর রাতের জন্য খাবার রান্না করি। যখন সে রাত 8টার দিকে কাজ থেকে ফিরে আসে, আমরা একসাথে খাই। খাওয়া-দাওয়া শেষে অনলাইন ক্লাসে যা শিখেছি, তা প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ওকে বুঝিয়ে দিই।

পরবর্তীতে, রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে, আমরা একসাথে হাঁটতে যাই। এই সময়ে, আমরা আমাদের সারাদিনের কথা বলি—আমার ফিল্ডওয়ার্কের কাজে কী ঘটল, তার কর্মক্ষেত্রে কী হলো, আমাদের দুশ্চিন্তা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করি।

এই নিবন্ধটির অনুবাদ এবং রিভিউ করেছে Shabd AI ।

আরও জানুন

  • একজন তরুণীর অলাভজনক সংস্থা থেকে কর্পোরেট জগতে যাত্রার বিষয়ে পড়ুন
  • গ্রামীণ কর্ণাটকের শিক্ষাগত চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানুন
donate banner
We want IDR to be as much yours as it is ours. Tell us what you want to read.
ABOUT THE AUTHORS
রুবিয়া বেগম-Image
রুবিয়া বেগম

রুবিয়া বেগম কর্ণাটকের রায়চুরে KHPT-এর ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক রুবিয়ার কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার হিসেবে চার বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রায়চুরে সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্থানীয় অলাভজনক সংস্থাগুলো থেকে একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি এমন একটি নিজস্ব ব্যবসা করতে চান, যেখানে সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে সবসময় সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকবে।

COMMENTS
READ NEXT